ঢাকা খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গাব্দ
ফিচার

বিলুপ্তির পথে দিনাজপুরের শীতল মাটির ঘর

দিনাজপুর  প্রতিনিধি  ২৬ নভেম্বার ২০২৫ ০৫:৩৩ পি.এম

দিনাজপুর জেলার গ্রাম্য মেঠো পথ ধরে হাঁটলে একসময় চোখে পড়ত সারি সারি মাটির তৈরি বাড়ি যা ছিল গরমে শীতল আর শীতে উষ্ণতার প্রতীক। কিন্তু কালের স্রোতে আর আধুনিকতার দাপটে সেই মাটির ঘরগুলো এখন বিলুপ্তির পথে। ইটের ভাঁটা আর সিমেন্টের দালানের ভিড়ে চাপা পড়ে যাচ্ছে মাটির তৈরি এই পরিবেশবান্ধব আশ্রয়গুলো, সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার হাজারো শৈশবের স্মৃতি।

একসময় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের প্রধান ভরসা ছিল এই মাটির ঘর। বাড়ির ভিটে তৈরি থেকে শুরু করে দেওয়াল গাঁথা সবকিছুতেই ছিল স্থানীয় কারিগরদের নিপুণ হাতের ছোঁয়া। মাটির তৈরি এই ঘরগুলো মজবুত হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকরও ছিল। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায়ও এগুলোর স্থায়িত্ব ছিল যথেষ্ট। কিন্তু বিগত এক দশকে দৃশ্যপট বদলে গেছে দ্রুত। মানুষ এখন সামান্য খরচে হলেও পাকা বাড়িকেই সামাজিক মর্যাদা ও আধুনিকতার প্রতীক হিসেবে দেখছে।

বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয়দের মতে, মাটির ঘর হারানোর পেছনে কয়েকটি কারণ মুখ্য: রক্ষণাবেক্ষণের চ্যালেঞ্জ: প্রতি বছর বর্ষার আগে মাটির দেওয়াল মেরামত করা এবং লেপে দেওয়ার কাজটি অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। অন্যদিকে, পাকা ঘর একবার তৈরি করলেই বছরের পর বছর নিশ্চিন্ত থাকা যায়।

স্থায়িত্বের অভাব: অতিবৃষ্টি বা বন্যায় মাটির ঘরের দেওয়াল ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে, যা পাকা ঘরের ক্ষেত্রে নেই।

সামাজিক মনোভাব: গ্রামের মানুষ এখন মনে করে, মাটির ঘরে থাকা মানে আর্থিক দুর্বলতার প্রতীক। তাই ধারদেনা করেও তারা পাকা ঘর নির্মাণে আগ্রহী হচ্ছে।

নির্মাণ শ্রমিকের অভাব: মাটির ঘর তৈরি করার মতো দক্ষ কারিগর এখন কমে গেছে। নতুন প্রজন্ম এই পেশায় আসতে চাইছে না।

এই পরিবর্তন নিয়ে সবচেয়ে বেশি আক্ষেপ প্রবীণদের। দিনাজপুর সদর উপজেলার ৩ নং ফাজিলপুর ইউনিয়নের প্রবীণ বাসিন্দা, আজীম উদ্দীন (৭৫), দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, এই মাটির ঘরেই আমার জন্ম, আমার ছেলে-মেয়েদেরও। ছোটবেলায় গরমে যখন পাকা ঘরে হাঁসফাঁস লাগত, তখন আমাদের মাটির ঘরের ঠাণ্ডা মেঝেতে শুয়ে শান্তি পেতাম। এখন নতুন প্রজন্ম টিনের চালা আর পাকা দালান ছাড়া কিছু চেনে না। মনে হয় যেন আমাদের অতীতটা মাটি চাপা পড়ে গেল।

স্থানীর প্রবীণরা আরও জানান, দিনাজপুরের এই নীরব পরিবর্তন শুধু কয়েকটি ঘরের বিলুপ্তি নয়, এটি আবহমান বাংলার একটি জীবনযাত্রার পদ্ধতির বিলুপ্তি। আধুনিকতার দৌড়ে আমরা হয়তো অনেক সুবিধা পাচ্ছি, কিন্তু হারাচ্ছি আমাদের শেকড়ের এক অমূল্য সম্পদ। এই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে সচেতনতার অভাব আজ প্রকট।

 

এই সম্পর্কিত আরও খবর

আরও পড়ুন

আরও খবর

news image

বিলুপ্তির পথে দিনাজপুরের শীতল মাটির ঘর

news image

বাংলাদেশের আকাশছোঁয়া জলবায়ু ঋণ: সহনশীলতা ঝুঁকিতে, দারিদ্র্য বাড়ছে

news image

সর্বজনীন ফর্মূলায় না আসলে অস্তিত্ব সংকটে পড়বে বাংলাদেশ

news image

দূষিত পরিবেশে বিপন্ন দেশ রক্ষার এখনই সময়

news image

আম ব্যবসায় সাফল্য: বড় উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন সোহাগের 

news image

তামাকমুক্ত দেশ গড়তে সকলের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন

news image

সৌখিন কৃষি ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মানবিক সেবা কাজে কুসুমপুর গ্রামবাসীর ভালোবাসায় শিক্ত ভেষজ বিজ্ঞানী বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ টিপু সুলতান পিএইচডি 

news image

প্রযুক্তিগত সুফল কৃষিতে জাগরণ সৃষ্টি করেছে

news image

পথে প্রান্তরে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে জারুল ফুল

news image

হাওরে কান্দা কাটায় গোখাদ্য ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস

news image

দক্ষিনাঞ্চল থেকে হাড়িয়ে যাচ্ছে ফুটপাতে চুলকাটার ঐতিহ্য

news image

জোসেফ মাহতাবের এক বহুমুখী সমাজ সংস্কারকের অন্যতম গল্প

news image

শেরপুরের মাটি সূর্যমুখী চাষে বেশ উপযোগী

news image

আমতলীতে আমের মুকুলের মৌমৌ গন্ধে দল বেঁধে মধু আহরনে ছুটছে মৌমাছি

news image

আমতলী থেকে হারিয়ে যাচ্ছে বেত ও বেতফল

news image

ভবেন্দ্র মোহন সাহা থেকে ভবা পাগলা হয়ে উঠার গল্প

news image

দক্ষিনাঞ্চল থেকে হারিয়ে যাচ্ছে গানের পাখি দোয়েল