সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ২১ ফেব্রু ২০২৬ ০২:০৫ পি.এম
দীর্ঘদিন ধরে মিষ্টি পানির সংকট, চাষের জমির মাটিতে ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা আর নিয়মিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে মোকাবেলা করে প্রতিকূল পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে আগাম বোরো ধান আবাদ করছেন সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকরা। কৃষকদের জন্য এবার বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে সার ও কীটনাশকের মূল্য বৃদ্ধি। এই পরিস্থিতিতে লবণাক্ততা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় উপকূলের কৃষকদের আগাম আবাদ ও লবণসহিষ্ণু জাতের ধান চাষের পরামর্শ দিচ্ছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।
প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক কারণে বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষা সাতক্ষীরা জেলার বড় অংশ বছরের অধিকাংশ সময় লবণাক্ততার ঝুঁকিতে থাকে। নদী-খাল আর চিংড়ি চাষের জন্য ধানের জমিতে তোলা লানা পানির প্রভাবে সাধারণ চাষাবাদ ব্যাহত হেেচ্ছ কয়েক দশক। এরপরও জীবন-জীবিকার তাগিদে লবণাক্ত মাটির সঙ্গে লড়াই করেই বোরো আবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন উপকূলের কৃষক।
কৃষক কেন আগাম চাষে আগ্রহী?
উপকূলের কৃষকরা জানান, সাধারণত মার্চ ও এপ্রিল মাসের শুষ্ক মৌসুমে এই অঞ্চলে লবণের তীব্রতা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। যা ধান চাষের জন্য বড় বাধা। এই ঝুঁকি এড়াতে এবার কৌশল বদলেছেন স্থানীয় কৃষকরা। প্রকৃতির খামখেয়ালিপনার আগেই আবাদ শুরু করেছেন বোরো আবাদ। তাদের লক্ষ্য, বর্ষায় জমে থাকা খালের মিষ্টি পানি ব্যবহার করে দ্রুত ফসল ঘরে তোলা ও ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমানো।
সদর উপজেলার ফিংড়ি গ্রামের কৃষক মহিউদ্দীন সরদার জানান, এবার তিনি আগাম বোরো ধান চাষ করেছেন। আগাম চাষের ফলে মার্চ-এপ্রিল আসার আগেই ধান পেকে যায়। যা লোনা পানির হাত থেকে ফসল রক্ষা করে। পাশর্^বর্তী খালে জমে থাকা বৃষ্টির মিষ্টি পানি ব্যবহার করতে পারায় এবার সেচ খরচও কিছুটা কম হয়েছে।
উৎপাদন খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক:
এদিকে, আবাদ আগাম শুরু হলেও কৃষকদের চোখে-মুখে এখনও চিন্তার ছাপ। তাদের অভিযোগ, চড়া মূল্যের সার, কীটনাশক আর জ্বালানি তেলের কারণে এবার বিঘাপ্রতি উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে কয়েক গুণ। ফলে উৎপাদিত ধানের কাঙ্খিত দাম না পেলে বড় অংকের লোকসানের শঙ্কায় আছেন তারা।
আশাশুনি উপজেলার কুল্যা গ্রামের কৃষক আরিজুল ইসলাম বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার চাষের খরচ অনেক বেড়ে গেছে। ডিজেল আর সারের দাম বাড়ায় সেচ দিতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। আমরা ঝুঁকি নিয়ে চাষ করছি, কিন্তু বাজারে ধানের সঠিক দাম না পেলে বড় লোকসানে পড়তে হবে।
কৃষক অনিরুদ্ধ মন্ডল জানান, শুধু সার-কীটনাশক নয়, দিনমজুরের মজুরিও বেড়েছে। সব মিলিয়ে এক বিঘা জমিতে ধান ফলাতে যা খরচ হচ্ছে, তাতে লাভ করাটা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
আশাশুনি উপজেলার শোভনালী গ্রামের কৃষক অলোক সরদার বলেন, উপকূলের লোনা মাটির সঙ্গে যুদ্ধ করে আমাদের টিকে থাকতে হয়। যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতি হয় বা ধানের দাম কম থাকে। আগামীতে বোরো চাষাবাদ করা আমাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়বে।
স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সম্ভাবনা:
প্রতিকূল এই পরিস্থিতিতেও আশার কথা শোনাচ্ছে জেলা কৃষি বিভাগ। তাদের পরামর্শে কৃষকরা এখন শুধু চিরাচরিত চাষাবাদ নয়, বরং ব্যবহার করছেন উন্নত প্রযুক্তির লবণসহিষ্ণু বীজ।
সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (খামারবাড়ি) উপ-পরিচালক (কৃষিবিদ) সাইফুল ইসলাম বলেন, লবণাক্ততা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে ফসল রক্ষার জন্য আমরা কৃষকদের আগাম চাষে উৎসাহিত করছি। বিশেষ করে লবণাক্ত এলাকায় ব্রি ধান ৬৭, ৯৭, ৯৯ ও বিনা ধান-১০ জাতের ধান চাষ করলে কৃষকরা ভালো ফলন পাবেন। কিছু এলাকায় উচ্চফলনশীল হাইব্রিড ধান চাষ করারও পরামর্শ দিচ্ছি আমরা।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরা লোয় ৮০ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এই মৌসুমে জেলায় ২ লাখ ৪১ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উপকূলীয় অঞ্চলে প্রতিকূল আবহাওয়া আর বাজারের অস্থিতিশীলতা, এই দুই চ্যালেঞ্জ জয় করতে সরকারি সহায়তা ও আধুনিক চাষ পদ্ধতির নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। এটি নিশ্চিত করা গেলে উপকূলীয় এই অঞ্চলে বোরোর উৎপাদন আরও কয়েক গুণ বাড়ানো সম্ভব হবে।
পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষায় আমাদের দায়িত্ব
তামাক চাষে তিন ফসলী কৃষি জমি উর্বরতা হারাচ্ছে
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকের নিরাপত্তা ও মালিকানার সংকট।
সিন্ধু জলচুক্তি: শান্তির দলিল নাকি একতরফা ছাড়ের ইতিহাস?
তরুণদের টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্তের ঝুঁকি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে
অনাবৃষ্টি প্রখর তাপে মুগডাল চাষিরা বিপাকে কাঙ্ক্ষিত ফলন থেকে বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা
ঈদ: ফিরে আসার অনন্ত গল্প-কৃষিবিদ মোঃ আতিকুর রহমান
ভাষা আন্দোলন ও সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রচলনের প্রয়োজনীয়তা
সাতক্ষীরায় লবণাক্ততা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ এড়াতে আগাম বোরো চাষ করছে কৃষক
যাদের স্বামী পাশে থেকেও নেই তাদের করনীয়
মাঘের শীতেই মুকুলে ভরেছে দিনাজপুরের আমগাছ
বিলুপ্তির পথে দিনাজপুরের শীতল মাটির ঘর
বাংলাদেশের আকাশছোঁয়া জলবায়ু ঋণ: সহনশীলতা ঝুঁকিতে, দারিদ্র্য বাড়ছে
সর্বজনীন ফর্মূলায় না আসলে অস্তিত্ব সংকটে পড়বে বাংলাদেশ
দূষিত পরিবেশে বিপন্ন দেশ রক্ষার এখনই সময়
আম ব্যবসায় সাফল্য: বড় উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন সোহাগের
তামাকমুক্ত দেশ গড়তে সকলের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন
সৌখিন কৃষি ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মানবিক সেবা কাজে কুসুমপুর গ্রামবাসীর ভালোবাসায় শিক্ত ভেষজ বিজ্ঞানী বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ টিপু সুলতান পিএইচডি
প্রযুক্তিগত সুফল কৃষিতে জাগরণ সৃষ্টি করেছে
পথে প্রান্তরে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে জারুল ফুল
হাওরে কান্দা কাটায় গোখাদ্য ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস
দক্ষিনাঞ্চল থেকে হাড়িয়ে যাচ্ছে ফুটপাতে চুলকাটার ঐতিহ্য
জোসেফ মাহতাবের এক বহুমুখী সমাজ সংস্কারকের অন্যতম গল্প
শেরপুরের মাটি সূর্যমুখী চাষে বেশ উপযোগী
আমতলীতে আমের মুকুলের মৌমৌ গন্ধে দল বেঁধে মধু আহরনে ছুটছে মৌমাছি
আমতলী থেকে হারিয়ে যাচ্ছে বেত ও বেতফল
ভবেন্দ্র মোহন সাহা থেকে ভবা পাগলা হয়ে উঠার গল্প
দক্ষিনাঞ্চল থেকে হারিয়ে যাচ্ছে গানের পাখি দোয়েল