ডেস্ক খবর ০৬ জুন ২০২৬ ০৭:২৩ পি.এম
বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বিস্তার রোধে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)।
এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত এবং সম্ভাব্য ডেঙ্গু ‘হটস্পট’ চিহ্নিত করতে পরিচালিত বর্ষা-পূর্ব জরিপে রাজধানীর দক্ষিণাঞ্চলের ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৩টিকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৭টি ওয়ার্ডে ঝুঁকির মাত্রা সবচেয়ে বেশি। সেসব এলাকায় বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ডা. নিশাত পারভীন বাসস’কে জানান, ডিএসসিসি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার যৌথ উদ্যোগে গত ১২ মে থেকে ২৩ মে পর্যন্ত ১২ দিনব্যাপী এডিস মশার লার্ভা জরিপ পরিচালিত হয়। জরিপে প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে ৩০টি করে মোট ২ হাজার ২৫০টি বাড়িকে নমুনা হিসেবে নির্বাচন করা হয়। তথ্য সংগ্রহে অংশ নেন ৩৬ জন প্রশিক্ষিত মাঠকর্মী। জরিপের নির্ভুলতা নিশ্চিতে ব্যবহৃত হয় আধুনিক ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ পদ্ধতি ‘কোবো টুলবক্স’ ।
জরিপে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্রেটো ইনডেক্স (বিআই), হাউস ইনডেক্স (এইচআই), কনটেইনার ইনডেক্স (সিআই) এবং পিউপা ইনডেক্স (পিআই) নির্ধারণ করা হয়। এসব সূচকের মাধ্যমে কোন এলাকায় মশার প্রজনন বেশি এবং কোথায় ডেঙ্গুর ঝুঁকি বেশি-সেগুলোর বৈজ্ঞানিক চিত্র পাওয়া গেছে। ফলাফলে দেখা যায়, ৬৩টি ওয়ার্ডে এডিস মশার ঘনত্ব উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে এবং ২৭টি ওয়ার্ডে পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
জরিপকালে পরিদর্শন করা ২ হাজার ২৩৮টি বাড়ির মধ্যে ২৮১টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা ও পিউপা পাওয়া যায়। ভবনের ধরন অনুযায়ী বহুতল ভবনগুলোতে সবচেয়ে বেশি লার্ভা শনাক্ত হয়েছে। মোট আক্রান্ত স্থাপনার ৩৫.২৩ শতাংশই বহুতল ভবন। এছাড়া স্বতন্ত্র বাড়িতে ২৭.৭৬ শতাংশ, নির্মাণাধীন ভবনে ১৭.৪৪ শতাংশ এবং সেমিপাকা বাড়িতে ১৪.৫৯ শতাংশ লার্ভা পাওয়া গেছে।
এসব তথ্যের ভিত্তিতে ডিএসসিসি মনে করছে, বহুতল ভবনের ছাদ, অব্যবহৃত পানির ট্যাংক, এসির ট্রে, ফুলের টব, নির্মাণাধীন ভবনের বেজমেন্ট ও বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি বর্তমানে এডিস মশার অন্যতম প্রধান প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ফলে শুধু বস্তি বা নিম্নআয়ের আবাসিক এলাকাই নয়, আধুনিক আবাসিক ভবনগুলোও ডেঙ্গু ঝুঁকির আওতায় চলে এসেছে।
জরিপে মশার প্রজননস্থল সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। মেঝেতে জমে থাকা পানিতে ১২.২৬ শতাংশ, বালতিতে জমে থাকা পানিতে ১০.৩৪ শতাংশ এবং প্লাস্টিকের ড্রামে ৮.৮৯ শতাংশ লার্ভা শনাক্ত হয়েছে। অর্থাৎ দৈনন্দিন ব্যবহারের সাধারণ পাত্র ও জমে থাকা পরিষ্কার পানিই এডিস মশার বংশবিস্তারের প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করছে।
ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বাসস’কে জানান, জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে ডিএসসিসি ইতোমধ্যে একাধিক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ২৭টি ওয়ার্ডে পাঁচদিনের বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম। আগামীকাল ৭ জুন থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে স্বাস্থ্য বিভাগ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ যৌথভাবে কাজ করবে। কর্মসূচির আওতায় মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, লার্ভা নিধন, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বর্জ্য অপসারণ, জনসচেতনতামূলক প্রচারণা এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে নিবিড় নজরদারি চালানো হবে।
পরবর্তী সপ্তাহে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ আরও ৩৬টি ওয়ার্ডেও একই ধরনের বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ডিএসসিসি প্রশাসক আরও বলেন, এবার কেবল নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে জরিপভিত্তিক ও তথ্যনির্ভর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে, যাতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে দ্রুত এবং কার্যকর হস্তক্ষেপ করা যায়।
জনসচেতনতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে আজ (শনিবার) ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে একটি সচেতনতামূলক র্যালির আয়োজন করা হয়েছে। ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে দক্ষিণ সিটির অন্যান্য এলাকাতেও সম্প্রসারণ করা হবে। ডিএসসিসি আশা করছে, নাগরিকদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশা মারার চেয়ে এটির জন্মস্থান ধ্বংস করা বেশি কার্যকর। তাই নগরবাসীকে সপ্তাহে অন্তত একদিন ‘ড্রাই ডে’ পালন করে বাসা, ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন ভবন, টব, ড্রাম, বালতি এবং আশপাশে জমে থাকা পানি অপসারণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
আবদুস সালাম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। নাগরিক, গণমাধ্যম, সামাজিক সংগঠন, ভবন মালিক এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত অংশগ্রহণ ছাড়া এডিস মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তবে জরিপের তথ্যের ভিত্তিতে গৃহীত আগাম পদক্ষেপ, ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডভিত্তিক বিশেষ অভিযান এবং ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয় -
ফরিদপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে র্যালি অনুষ্ঠিত
ফরিদপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ৩২ জন হামে আক্রান্ত, মৃত্যু নেই
৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে
বরুড়ায় এ কে এম আবু তাহের ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত
ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামের উপসর্গে ৪ বছর বয়সি শিশুর মৃত্যু
সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশনের টিকা অনুদানের জন্য চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামের উপসর্গ নিয়ে ৩ শিশুর মৃত্যু,মোট মৃত্যু ২০
ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামে আক্রান্ত আরও ১ জনের মৃত্যু, মোট মৃত্যু ১৭ নতুন ভর্তি ২৮
বীরগঞ্জে দুই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা
আগামী রোববার থেকে হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী
নগড় সহ ময়মনসিংহে বেড়েই চলছে হাম রুগীর সংখ্যা
বিএমইউতে স্ট্রাকচার্ড ক্লিনিক্যাল এ্যাসেসমেন্ট নিয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত
জনস্বাস্থ্য পেশার সম্ভাবনা নিয়ে আইএসইউতে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞের সেমিনার
বাংলাদেশ অর্থোপেডিক সোসাইটির ৩৮তম বার্ষিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলন ২০২৫
বিএমইউতে প্রিসিশন মেডিসিন নিয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত
বাংলাদেশের লিভার রোগ চিকিৎসার পথিকৃৎ,অধ্যাপক ডা. মবিন খান এর স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত
টিকেট কাটা ও ডাক্তার দেখাতে দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি এড়াতে বিএমইউতে অনলাইন সেবা চালু
রাজশাহীতে টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু ১২ অক্টোবর
সাতক্ষীরায় টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন বিষয়ক দিনব্যাপী পরামর্শমূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
জয়পুরহাটে বিএনপির উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প
জামায়াতের চিকিৎসা ক্যাম্পে চশমা, অপারেশন, ওষুধ সহ বিনামূল্যে চিকিৎসা পেলেন হাজারো মানুষ
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর স্বাস্থ্য কম্পপ্লেক্সে হচ্ছেটা কী ?
করোনার নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্ট ঠেকাতে লাকসামে স্বাস্থ্য বিভাগের সতর্কবার্তা; প্রেসব্লিফিং
বিজয়নগরে স্বাস্থ্য সহকারীদের ২ ঘণ্টা কর্মবিরতি
পিরোজপুরে মৌলভী জয়নুল আবেদীন অ্যাসোসিয়েশন এর উদ্যোগে বিনামূল্য চক্ষু চিকিৎসা
কাপ্তাইয়ে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত
ক্ষতিকর মিথেন গ্যাস নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরীর নতুন উদ্ভাবন
চা পানে সারবে সর্দি-কাশি
সেরব্রাল পালসি" রোগে আক্রান্ত শিশু আরাফাত বাঁচতে চায়